🎉 Now includes Field Attendance (GPS-based) for remote teams.

বাংলাদেশে ওভারটাইম হিসাব করার নিয়ম

Share it:

HR টিমের হাতে OT-র হিসাব ভুল হলে সমস্যাটা শুধু একজন কর্মীর বেতনে আটকে থাকে না। ভুল রেট প্রয়োগ, অসম্পূর্ণ রেকর্ড বা ম্যানুয়াল স্প্রেডশিটের ভুল ধরা পড়ে DIFE পরিদর্শন বা বায়ার অডিটে, আর তখন পুরো প্রতিষ্ঠানকে জবাবদিহি করতে হয়। এই গাইডে বাংলাদেশ শ্রম আইনসম্মত ওভারটাইম হিসাবের ফর্মুলা, বাস্তব উদাহরণ, এবং attendance থেকে payroll পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়া ধাপে ধাপে দেখানো হলো।

ওভারটাইম (OT) কী

ওভারটাইম বলতে বোঝায় একজন কর্মী তার নির্ধারিত দৈনিক বা সাপ্তাহিক কর্মঘণ্টার অতিরিক্ত যে সময় কাজ করেন। বাংলাদেশে সাধারণ কর্মঘণ্টা দৈনিক ৮ ঘণ্টা এবং সাপ্তাহিক ৪৮ ঘণ্টা নির্ধারিত। এর অতিরিক্ত কাজের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য আইন ও শর্ত অনুযায়ী ওভারটাইম হিসেবে হিসাব করা হয়।

শ্রম আইন কিছু সীমাও বেঁধে দিয়েছে যাতে কর্মীরা অতিরিক্ত কাজের চাপে না পড়েন:

  • দৈনিক সর্বোচ্চ ১০ ঘণ্টা (নিয়মিত + ওভারটাইম মিলিয়ে)
  • সাপ্তাহিক সর্বোচ্চ ৬০ ঘণ্টা
  • বছরে গড়ে সাপ্তাহিক ৫৬ ঘণ্টা

Coordinates:  23.74833250, 90.37188170

Table of Contents

বাংলাদেশে ওভারটাইম পরিশোধ নিয়ন্ত্রিত হয় বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর ধারা ১০০, ১০২ ও ১০৮ এবং প্রযোজ্য শ্রম বিধিমালা অনুযায়ী। ধারা ১০৮-এর আওতাভুক্ত ওভারটাইমের ক্ষেত্রে শ্রমিককে তার সাধারণ হারের দ্বিগুণ হারে ভাতা দিতে হয়। এই হিসাবের ভিত্তি হলো basic wage-এর সঙ্গে প্রযোজ্য dearness allowance এবং, যেখানে প্রযোজ্য, ad-hoc বা interim wage।

এখানে একটা সাধারণ বিভ্রান্তি পরিষ্কার করা দরকার। অনলাইনে কিছু guide বলে ওভারটাইম রেট নিয়মিত কর্মদিবসে দেড়গুণ (১.৫×)। এই ১.৫× সংখ্যাটা বাংলাদেশের আইনে নেই। এটা অন্য দেশের (যেমন যুক্তরাষ্ট্রের) নিয়ম থেকে আসা একটা সাধারণ ভ্রান্তি। ধারা ১০৮-এর আওতাভুক্ত ওভারটাইমের ক্ষেত্রে হার সবসময় দ্বিগুণ, কম নয়।

তবে একটা প্রকৃত ব্যতিক্রম আছে, আর সেটা রেট নিয়ে নয়, কোন দিনের কাজ “ওভারটাইম” হিসেবে গণ্য হবে তা নিয়ে। সাপ্তাহিক ছুটির দিনে করা কাজের জন্য শ্রম আইনে আলাদা বিধান আছে, তাই ছুটির দিনের প্রতিটি ঘণ্টাকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিয়মিত-দিনের OT হিসেবে ধরে একই হিসাব বসিয়ে দেওয়া ঠিক নয় প্রযোজ্য ক্ষেত্রে এই ঘণ্টাগুলো আলাদাভাবে যাচাই করা উচিত। রেট (দ্বিগুণ) একই থাকে, শুধু কোন ঘণ্টাগুলো এই আওতায় পড়বে সেটা যাচাই করা জরুরি।

মাসিক বেতনভুক্ত কর্মীর জন্য সাধারণ হিসাবের ফর্মুলা:

 
ওভারটাইম বেতন = (মূল বেতন ÷ ২০৮) × ২ × ওভারটাইম ঘণ্টা

এখানে ২০৮ সংখ্যাটা আসে মাসিক গড় কর্মঘণ্টা থেকে — ২৬ কর্মদিবস × ৮ ঘণ্টা = ২০৮ ঘণ্টা। এই ভাগফলটাই একজন কর্মীর প্রতি-ঘণ্টার সাধারণ হার, যাকে দ্বিগুণ করে ওভারটাইম রেট বের করা হয়।

এর বাইরে দুটো ব্যতিক্রম মাথায় রাখতে হবে:

  • হিসাবের ভিত্তি: ধারা ১০৮ অনুযায়ী প্রযোজ্য ক্ষেত্রে basic wage-এর সঙ্গে dearness allowance বা ad-hoc/interim wage যুক্ত হতে পারে। বেশিরভাগ আধুনিক বেতন কাঠামোয় আলাদা dearness allowance না থাকায় ব্যবহারিকভাবে শুধু মূল বেতনই হিসাবের ভিত্তি হিসেবে ব্যবহৃত হয়, তবে কোনো প্রতিষ্ঠানের salary structure-এ এসব উপাদান থাকলে হিসাবের আগে প্রযোজ্য বিধান যাচাই করা উচিত।
  • পিস-রেট বা প্রোডাকশন-ভিত্তিক শ্রমিকদের জন্য নির্দিষ্ট মাসিক বেতন থাকে না, তাই নিয়োগকর্তাকে শ্রমিকের সাথে আলোচনা করে একটা গড় ঘণ্টার হার নির্ধারণ করতে হয়, যা থেকে ওভারটাইম রেট বের হয়।

🧮 ওভারটাইম ক্যালকুলেটর

মূল বেতন ও ওভারটাইম ঘণ্টা লিখুন। ধারা ১০৮ অনুযায়ী (দ্বিগুণ হারে) আপনার প্রাপ্য টাকা সাথে সাথে বদলে যাবে।

৳
গ্রস বেতন নয়, শুধু মূল বা Basic অংশ লিখুন অনুগ্রহ করে সঠিক সংখ্যা লিখুন (০ এর বেশি)
⏱
পুরো মাসের মোট ওভারটাইম ঘণ্টা অনুগ্রহ করে সঠিক সংখ্যা লিখুন (০ এর বেশি)

আপনি পাবেন

৳ ২,৪০৪

▸ হিসাবটা কীভাবে হলো দেখুন
১) প্রতি ঘণ্টার সাধারণ হার হলো মূল বেতন ভাগ ২০৮, অর্থাৎ -
২) ওভারটাইম হার সবসময় দ্বিগুণ, অর্থাৎ -
৩) মোট ওভারটাইম বেতন হলো ঘণ্টার হার গুণ দুই গুণ OT ঘণ্টা, অর্থাৎ -

এই হিসাব বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ এর ধারা ১০৮ অনুযায়ী সাধারণ মাসিক বেতনভুক্ত কর্মীর জন্য প্রযোজ্য (২৬ কর্মদিবস গুণ ৮ ঘণ্টা সমান ২০৮ ঘণ্টা ভিত্তিতে)। dearness allowance বা ad hoc wage থাকলে হিসাবের ভিত্তি ভিন্ন হতে পারে, তাই নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে আপনার HR বিভাগের সাথে যাচাই করে নিন।

একই ফর্মুলা তিন ধরনের কর্মীর ক্ষেত্রে কেমন ফলাফল দেয়, সেটা পাশাপাশি রাখলে পার্থক্যটা স্পষ্ট হয়।

কর্মীর ধরনমূল বেতনঘণ্টার হার (÷২০৮)OT ঘণ্টাওভারটাইম বেতন
অফিস কর্মী (মাসিক বেতনভুক্ত)২৫,০০০ টাকা≈১২০.১৯ টাকা১০ ঘণ্টা≈২,৪০৪ টাকা
RMG/গার্মেন্টস শ্রমিক (গ্রেড অনুযায়ী)১০,০৫০ টাকা≈৪৮.৩২ টাকা১২ ঘণ্টা≈১,১৬০ টাকা
পিস-রেট শ্রমিকগড় হার নির্ধারিতনিয়োগকর্তা-শ্রমিক আলোচনায় নির্ধারিতপরিবর্তনশীলগড় ঘণ্টার হার × ২ × OT ঘণ্টা

উদাহরণ ১ (ধাপে ধাপে): একজন কর্মীর মূল বেতন ২৫,০০০ টাকা। ঘণ্টার হার = ২৫,০০০ ÷ ২০৮ = ≈১২০.১৯ টাকা। তিনি মাসে ১০ ঘণ্টা ওভারটাইম করেছেন। ওভারটাইম বেতন = ১২০.১৯ × ২ × ১০ = ≈২,৪০৪ টাকা। এই পরিমাণ তার নিয়মিত বেতনের সাথে যুক্ত হয়ে মোট বেতন নির্ধারণে অন্তর্ভুক্ত হবে।

ফর্মুলা জানা এক জিনিস, প্রতিদিন শত শত কর্মীর জন্য সেটা সঠিকভাবে প্রয়োগ করা আরেক জিনিস। ম্যানুয়াল স্প্রেডশিটে এই কাজ করতে গেলে সবচেয়ে বেশি ভুল হয় রাউন্ডিং, ডুপ্লিকেট এন্ট্রি এবং অনুমোদনহীন ঘণ্টা গণনায়। Attendance Management System ব্যবহার করে এই প্রক্রিয়ার অনেক অংশ স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিচালনা করা যায়। পুরো প্রক্রিয়াটা সাধারণত এভাবে চলে:

  1. পাঞ্চ ইন/আউট রেকর্ড হয় — বায়োমেট্রিক ডিভাইস বা মোবাইল অ্যাপ থেকে কর্মীর প্রকৃত প্রবেশ ও প্রস্থানের সময় স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংগ্রহ হয়।
  2. শিফটের বিপরীতে তুলনা করে অতিরিক্ত সময় ফ্ল্যাগ হয় — সিস্টেম নির্ধারিত শিফটের সময়ের সাথে প্রকৃত কর্মঘণ্টা তুলনা করে অতিরিক্ত অংশকে OT হিসেবে চিহ্নিত করে। প্রয়োজনে Shift Management System দিয়ে শিফট ও OT-সংক্রান্ত তথ্য পরিচালনা করা যায়।
  3. ম্যানেজার অনুমোদন দেন — ফ্ল্যাগ হওয়া OT ঘণ্টা সরাসরি payroll-এ না গিয়ে প্রথমে সংশ্লিষ্ট ম্যানেজারের অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়, যাতে অনিচ্ছাকৃত বা ভুল এন্ট্রি বাদ পড়ে।
  4. অনুমোদিত ঘণ্টা payroll মডিউলে যায় — অনুমোদনের পর ঘণ্টাসংখ্যা payroll-এ চলে যায় এবং প্রযোজ্য ফর্মুলা অনুযায়ী স্বয়ংক্রিয়ভাবে ওভারটাইম বেতন গণনা হয়ে পে-স্লিপে যুক্ত হয়।

যেসব প্রতিষ্ঠান এই চার ধাপ এখনও স্প্রেডশিটে ম্যানুয়ালি করে, সেখানে বেশিরভাগ ভুল হয় ২ নম্বর ধাপে — কেউ ১৫ মিনিটকে রাউন্ড করে বাদ দেয়, কেউ দুই দিনের এন্ট্রি একসাথে গুলিয়ে ফেলে, কেউ ভুল শিফটের সাথে তুলনা করে ফেলে। সিস্টেমে validation ও approval workflow থাকলে এই ধরনের ভুল সহজে ধরা পড়ে।

  • কখন পরিশোধ করতে হয়: মজুরিকাল শেষ হওয়ার পরবর্তী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মজুরি পরিশোধের বিধান রয়েছে। OT-এর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য payment cycle ও wage period অনুযায়ী payroll-এ হিসাব অন্তর্ভুক্ত করা উচিত — সাধারণত এটা পরবর্তী নিয়মিত বেতনের সাথেই একসাথে পরিশোধিত হয়।
  • পে-স্লিপে উপস্থাপন: ওভারটাইম বেতনকে নিয়মিত বেতনের সাথে মিশিয়ে না দিয়ে আলাদা লাইন-আইটেম হিসেবে দেখানো উচিত, যাতে কর্মী ও অডিটর উভয়ই স্পষ্টভাবে হিসাবটা যাচাই করতে পারেন।
  • রেকর্ড সংরক্ষণ: কর্মীর attendance ও OT-সংক্রান্ত হিসাব ও অনুমোদনের রেকর্ড সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা উচিত — এটি DIFE পরিদর্শন, BGMEA অডিট বা বায়ার কমপ্লায়েন্স রিভিউয়ের অন্যতম প্রধান চেকপয়েন্ট।

Payroll Management System ব্যবহার করে attendance, OT এবং salary calculation-কে একই payroll workflow-এর মধ্যে পরিচালনা করা যায়।

  • ১.৫× রেট প্রয়োগ করা: বাংলাদেশে ধারা ১০৮-এর আওতাভুক্ত ওভারটাইমের ক্ষেত্রে সবসময় দ্বিগুণ হার প্রযোজ্য; ১.৫× অন্য দেশের নিয়ম থেকে আসা ভুল।
  • গ্রস বেতনের উপর সরাসরি হিসাব করা: ধারা ১০৮ অনুযায়ী basic wage-ভিত্তিক হিসাব, তাতে প্রযোজ্য allowance যুক্ত হতে পারে — কিন্তু পুরো gross salary-কে না যাচাই করে calculation base ধরে নেওয়া উচিত নয়।
  • সর্বোচ্চ ঘণ্টার সীমা অতিক্রম করা: দৈনিক ১০ ঘণ্টা ও সাপ্তাহিক ৬০ ঘণ্টার সীমা লঙ্ঘন আইনি ঝুঁকি তৈরি করে।
  • দৈনিক লগ ও অনুমোদনের রেকর্ড না রাখা: রেকর্ডের অভাবে পরিদর্শনে সমস্যা হয়, এমনকি হিসাব সঠিক হলেও প্রমাণের অভাবে জরিমানার ঝুঁকি থাকে।

OT কী? দৈনিক ৮ ঘণ্টা বা সাপ্তাহিক ৪৮ ঘণ্টার বাইরে যে সময়টুকু কাজ হয়, সেটাই OT — এর জন্য আলাদা, বাড়তি হারে পারিশ্রমিক পাওয়ার কথা আইনে বলা আছে।

ওভারটাইম হিসাবের নিয়ম কী? (মূল বেতন ÷ ২০৮) × ২ × ওভারটাইম ঘণ্টা। ধারা ১০৮ অনুযায়ী রেট সবসময় দ্বিগুণ — কোথাও দেড়গুণের কথা লেখা থাকলে সেটা ভুল বা অন্য দেশের নিয়ম থেকে ধার করা।

হিসাবের একটি বাস্তব উদাহরণ দিন ২৫,০০০ টাকা মূল বেতনের কর্মী ১০ ঘণ্টা OT করলে পাবেন (২৫,০০০ ÷ ২০৮) × ২ × ১০ = প্রায় ২,৪০৪ টাকা।

Attendance থেকে কীভাবে OT বের করা হয়? পাঞ্চ ইন/আউট থেকে শিফটের অতিরিক্ত সময় সিস্টেম নিজেই ফ্ল্যাগ করে, ম্যানেজার সেটা অনুমোদন করেন, তারপর ঘণ্টাগুলো payroll-এ চলে যায়।

Payroll-এ OT কীভাবে অন্তর্ভুক্ত হয়? সাধারণত পরের মাসের বেতনের সাথেই একসাথে দেওয়া হয়, এবং পে-স্লিপে নিয়মিত বেতন থেকে আলাদা লাইনে দেখানো হয় — যাতে কর্মী ও অডিটর দুজনেই আলাদা করে যাচাই করতে পারেন।

আইনি উৎস: বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ — ধারা ১০০–১০৮
মজুরি পরিশোধের সময়: বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ — ধারা ১২৩

এই গাইডটি সাধারণ তথ্যের জন্য; নির্দিষ্ট শিল্প, শ্রমিকের শ্রেণি বা প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য বিশেষ বিধান থাকলে তা আলাদাভাবে যাচাই করা উচিত।

Book a free demo

🔒 Your information is secure and will never be shared with third parties.

Book a Subscription Plans

🔒 Your information is secure and will never be shared with third parties.