🎉 Now includes Field Attendance (GPS-based) for remote teams.

বাংলাদেশে ওভারটাইম হিসাব করার নিয়ম

Share it:

মাস শেষে বেতন হাতে পাওয়ার পর একটা প্রশ্ন প্রায়ই মাথায় ঘোরে। আমার ওভারটাইমের টাকাটা কি ঠিকভাবে যোগ হলো? HR এর দিক থেকেও একই সমস্যা। বেসিকের ওপর হিসাব হবে নাকি গ্রসের ওপর, ২০৮ সংখ্যাটাই বা কোথা থেকে এলো, এই প্রশ্নগুলো নতুন পে-রোল অফিসারদের প্রায় সবাইকেই একবার না একবার ভাবিয়েছে। এই লেখায় শ্রম আইন অনুযায়ী ওভারটাইমের নিয়ম, হিসাবের সূত্র, বাস্তব উদাহরণ এবং attendance থেকে payroll পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়াটা সহজ করে দেখানো হলো।

Table of Contents

নির্ধারিত কার্যঘণ্টার বাইরে গিয়ে একজন শ্রমিক বা কর্মচারী যে অতিরিক্ত সময় কাজ করেন, সেটাই ওভারটাইম বা অধিকাল। বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ এর ধারা ১০২ অনুযায়ী একজন প্রাপ্তবয়স্ক শ্রমিকের স্বাভাবিক কর্মঘণ্টা দৈনিক সর্বোচ্চ ৮ ঘণ্টা এবং সাপ্তাহিক সর্বোচ্চ ৪৮ ঘণ্টা। এই সীমার বাইরে কাজ করলে সেটাই ওভারটাইম হিসেবে গণ্য হয়, আর আইন অনুযায়ী তার জন্য অতিরিক্ত পারিশ্রমিক পাওয়ার অধিকার শ্রমিকের আছে।

overtime rate ও সীমা নির্ধারিত হয়েছে শ্রম আইনের ধারা ১০২ ও ১০৮ এ। মূল নিয়মগুলো এমন:

  • ওভারটাইম রেট: স্বাভাবিক মজুরির দ্বিগুণ (২ গুণ) হারে ওভারটাইম ভাতা দিতে হবে
  • দৈনিক সীমা: ওভারটাইমসহ একদিনে সর্বোচ্চ ১০ ঘণ্টা কাজ করানো যাবে
  • সাপ্তাহিক সীমা: ওভারটাইমসহ সপ্তাহে সর্বোচ্চ ৬০ ঘণ্টা, বছরব্যাপী গড়ে সপ্তাহে ৫৬ ঘণ্টার বেশি নয়
  • হিসাবের ভিত্তি: বেসিক বেতন, গ্রস বেতন নয়
  • রেকর্ড রাখা বাধ্যতামূলক: প্রতিষ্ঠানকে প্রতিদিনের ওভারটাইমের রেকর্ড সংরক্ষণ করতে হয়, DIFE পরিদর্শনে এটাই প্রথম চেক করা হয়

বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠান এই একটা জায়গায় ভুল করে। গ্রস বেতনের ওপর ওভারটাইম হিসাব করে ফেলে, যেটা শ্রম আইনের সঙ্গে যায় না। সঠিক নিয়ম হলো বেসিক বেতনের ভিত্তিতে হিসাব করা।

বাংলাদেশে প্রচলিত ও আইনসম্মত সূত্রটি হলো:

 
ওভারটাইম হার (প্রতি ঘণ্টা) = (বেসিক বেতন ÷ ২০৮) × ২
মোট ওভারটাইম বেতন = ওভারটাইম হার × মোট ওভারটাইম ঘণ্টা

২০৮ সংখ্যাটা আসে এভাবে: ২৬ কর্মদিবস × ৮ ঘণ্টা প্রতিদিন = ২০৮ ঘণ্টা, এটাই মাসিক স্বাভাবিক কর্মঘণ্টা। মাসিক বেসিক বেতনকে ২০৮ দিয়ে ভাগ করলে প্রতি ঘণ্টার স্বাভাবিক মজুরি পাওয়া যায়, সেটাকে ২ দিয়ে গুণ করলে প্রতি ঘণ্টার ওভারটাইম রেট বের হয়।

Coordinates:  23.74833250, 90.37188170

একটা বাস্তব উদাহরণ দিয়ে দেখা যাক।

ধরা যাক করিম সাহেবের বেসিক বেতন ৮,০০০ টাকা। ফেব্রুয়ারি মাসে তিনি মোট ২০ ঘণ্টা ওভারটাইম কাজ করেছেন।

 
ওভারটাইম হার = (৮,০০০ ÷ ২০৮) × ২ = ৭৬.৯২ টাকা/ঘণ্টা
মোট ওভারটাইম বেতন = ৭৬.৯২ × ২০ = ১,৫৩৮.৪৬ টাকা (প্রায়)

তার নিয়মিত বেতনের পাশাপাশি প্রায় ১,৫৩৮ টাকা ওভারটাইম বাবদ যোগ হবে।

পিস রেট (উৎপাদন ভিত্তিক) শ্রমিকদের ক্ষেত্রে সরকার নির্ধারিত সংশ্লিষ্ট গ্রেডের সর্বনিম্ন মজুরির ভিত্তিতে একই সূত্র প্রয়োগ করা হয়। যেমন গ্রেড ৬ এর ন্যূনতম মজুরি ১,৮৫১ টাকা ধরে হিসাব করা হয়।

সঠিক ওভারটাইম হিসাবের প্রথম শর্ত নির্ভুল attendance ডেটা। সাধারণত এই ধাপগুলো অনুসরণ করা হয়।

প্রথমে বায়োমেট্রিক বা কার্ড পাঞ্চ মেশিন থেকে প্রতিদিনের in-time ও out-time রেকর্ড সংগ্রহ করা হয়। এরপর নির্ধারিত শিফট সময়ের সাথে তুলনা করে দৈনিক ৮ ঘণ্টার বাইরে কতটা সময় কাজ হয়েছে বের করা হয়। সুপারভাইজার বা ম্যানেজার সেই অতিরিক্ত সময় অনুমোদন করেন। অনেক প্রতিষ্ঠানে অননুমোদিত অতিরিক্ত সময় গণনায় ধরা হয় না, এই নিয়মটা প্রতিষ্ঠানভেদে ভিন্ন হতে পারে। মাসশেষে অনুমোদিত সব ঘণ্টা যোগ করে চূড়ান্ত OT ঘণ্টা নির্ধারণ হয়, তারপর সেটাতে (বেসিক ÷ ২০৮) × ২ সূত্র প্রয়োগ করে টাকার অঙ্কে রূপান্তর করা হয়।

ম্যানুয়াল হাজিরা খাতা থেকে এই হিসাব করা সময়সাপেক্ষ এবং ভুলের ঝুঁকিও বেশি। এই কারণে বড় প্রতিষ্ঠানগুলো সাধারণত অটোমেটেড অ্যাটেনডেন্স সিস্টেম ব্যবহার করে।

মাসিক বেতন তৈরির সময় ওভারটাইম কয়েকটা ধাপে payroll এ যুক্ত হয়। প্রথমে অ্যাটেনডেন্স সিস্টেম থেকে প্রতিটি কর্মীর মাসিক অনুমোদিত OT ঘণ্টা সংগ্রহ করা হয়। এরপর প্রতিটি কর্মীর বেসিক বেতন অনুযায়ী ঘণ্টাপ্রতি OT রেট বের করা হয়, আর সেই রেট ও ঘণ্টা গুণ করে মোট ওভারটাইম ভাতা হিসাব করা হয়। এই অঙ্কটা নিয়মিত মাসিক বেতনের (বেসিক, বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ভাতা ইত্যাদি) সাথে যোগ করে গ্রস পেয়েবল বের হয়। শেষে পে স্লিপে ওভারটাইম আলাদা লাইন আইটেম হিসেবে দেখানো হয়, যাতে কর্মী নিজে যাচাই করতে পারেন।

বেশিরভাগ আধুনিক HR ও payroll সফটওয়্যার এই পুরো প্রক্রিয়াটা স্বয়ংক্রিয় করে দেয়। অ্যাটেনডেন্স ডেটা থেকে সরাসরি OT ক্যালকুলেশন হয়ে পে স্লিপে চলে আসে, ফলে ম্যানুয়াল ভুলের সম্ভাবনা অনেকটাই কমে।

  • গ্রস বেতনের ওপর ওভারটাইম হিসাব করা, নিয়ম অনুযায়ী বেসিকের ওপর হওয়া উচিত
  • ২০৮ ঘণ্টার বদলে ভিন্ন মাসিক ঘণ্টা ব্যবহার করা
  • অননুমোদিত অতিরিক্ত সময়কেও OT হিসেবে গণনা করা
  • দৈনিক ১০ ঘণ্টা বা সাপ্তাহিক ৬০ ঘণ্টার সীমা অতিক্রম করেও কর্মী দিয়ে কাজ করানো
  • OT রেকর্ড সংরক্ষণ না করা, যা পরিদর্শনের সময় সমস্যা তৈরি করতে পারে

ওভারটাইম কি গ্রস বেতনের ওপর হিসাব হয়? না। শ্রম আইন অনুযায়ী ওভারটাইম হিসাব হয় বেসিক বেতনের ওপর ভিত্তি করে। গ্রস বেতনে বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ভাতাসহ অন্যান্য উপাদান থাকে, যা OT হিসাবে ধরা হয় না।

২০৮ ঘণ্টা সংখ্যাটা কীভাবে আসে? ২৬ কর্মদিবস কে ৮ ঘণ্টা দিয়ে গুণ করলে ২০৮ ঘণ্টা পাওয়া যায়। এটাই মাসিক স্বাভাবিক কর্মঘণ্টা হিসেবে ধরা হয়।

একজন শ্রমিক সপ্তাহে সর্বোচ্চ কত ঘণ্টা ওভারটাইমসহ কাজ করতে পারবেন? ওভারটাইমসহ সাপ্তাহিক সর্বোচ্চ ৬০ ঘণ্টা, আর বছরব্যাপী গড়ে সপ্তাহে ৫৬ ঘণ্টার বেশি নয়।

ওভারটাইম হিসাব প্রথম দেখায় জটিল মনে হয়, কিন্তু মূল সূত্রটা আসলে একদম সোজা। বেসিক বেতনকে ২০৮ দিয়ে ভাগ করুন, ২ দিয়ে গুণ করুন, তারপর OT ঘণ্টা দিয়ে গুণ করুন। এই সূত্র মনে রাখলে এবং সঠিক অ্যাটেনডেন্স রেকর্ড বজায় রাখলে কর্মী ও প্রতিষ্ঠান উভয়ের জন্যই স্বচ্ছ ও আইনসম্মত ওভারটাইম হিসাব সম্ভব। প্রতিষ্ঠান বড় হলে ম্যানুয়াল হিসাবের বদলে অটোমেটেড payroll সিস্টেম ব্যবহার করাই এখন সবচেয়ে নিরাপদ পথ।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ (ধারা ১০২, ১০৮)

Book a free demo

🔒 Your information is secure and will never be shared with third parties.

Book a Subscription Plans

🔒 Your information is secure and will never be shared with third parties.